২০০৬ সালের ১২ মার্চ। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ৪৩৪ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে তাদের টেক্কা দিয়ে ৪৩৮ রান তুলে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৮ রানে রেকর্ড ভেঙে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪৪৩ রানের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কা।
এতোদিন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। কিন্তু কে জানত ১০ বছরের মাথায় পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সেই রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ড ৪৪৪ রানের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বে? কেউ চিন্তা না করলেও আলেক্স হেলস (১৭১), জস বাটলার (৯০), জো রুট (৮৫) ও ইয়ান মরগানের (৫৭) ইনিংসে ভর করে রেকর্ড ৪৪৪ রান সংগ্রহ করেছে ইংলিশরা।
এমন সময়ে চলুন চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে শীর্ষ ১০ দলীয় সংগ্রহে।
অবশ্য ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে শীর্ষ ১০ দলীয় সংগ্রহে দক্ষিণ আফ্রিকার আধিপত্য চোখে লাগার মতো। ১০টি ইনিংসের মধ্যে চারটিই তাদের। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের দুটি করে। অপর দুটি শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের।
দল স্কোর ওভার প্রতিপক্ষ তারিখ
**ইংল্যান্ড ৪৪৪/৩ ৫০ পাকিস্তান ৩০ আগস্ট ২০১৬
**শ্রীলঙ্কা ৪৪৩/৯ ৫০ নেদারল্যান্ডস ৪ জুলাই ২০০৬
**দ. আফ্রিকা ৪৩৯/২ ৫০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ জানুয়ারি ২০১৫
**দ.আফ্রিকা ৪৩৮/৯ ৪৯.৫ অস্ট্রেলিয়া ১২ মার্চ ২০০৬
**দ. আফ্রিকা ৪৩৮/৪ ৫০ ভারত ২৫ অক্টোবর ২০১৫
**অস্ট্রেলিয়া ৪৩৪/৪ ৫০ দ. আফ্রিকা ১২ মার্চ ২০০৬
**দ. আফ্রিকা ৪১৮/৫ ৫০ জিম্বাবুয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৬
**ভারত ৪১৮/৫ ৫০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ ডিসেম্বর ২০১১
**অস্ট্রেলিয়া ৪১৭/৬ ৫০ আফগানিস্তান ৪ মার্চ ২০১৫
**ভারত ৪১৭/৭ ৫০ শ্রীলঙ্কা ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯।
Tuesday, August 30, 2016
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে শীর্ষ ১০ দলীয় সংগ্রহ
Friday, August 26, 2016
ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের সম্পূর্ণ সূচি
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যথাসময়েই বাংলাদেশে আসার ঘোষণা দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সব ঠিক ঠাক থাকলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পা রাখবে দলটি।
বাংলাদেশ সিরিজে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল তিনটি ওয়ানডে ও দু’টি টেস্ট খেলবে। এছাড়া বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি মূলক ওয়ানডে ম্যাচ ও একটি দুই দিনের প্রথম শ্রেণির প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা।
সিরিজ শুরু হবে প্রস্তুতি মূলক ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। আগামী তিন অক্টোবর সকালে ম্যাচেটি অনুষ্ঠিত হবে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে। এরপর সাত ও নয় অক্টোবর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচ। দুটি ম্যাচই দিবারাত্রির।
এরপর দু’দল চলে আসবে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর একই ভেন্যুতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দু’দিনের প্রথম শ্রেণির প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড।
প্রথম টেস্ট হবে চট্টগ্রামেই। সেটা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর। এরপর আবারও দু’দল ফিরবে ঢাকায়। ২৮ অক্টোবর থেকে মিরপুরে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সেটা শেষ করে নভেম্বেরের শুরুতেই বাংলাদেশ ছাড়বে ইংলিশরা।
Thursday, August 25, 2016
৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসছে ইংলিশ ক্রিকেট দল
নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও নির্ধারিত সময়েই বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পা রাখবে ইংলিশরা। বৃহস্পতিবারই তাদের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের পর এই সিদ্ধান্ত নেয় ইসিবি। সফরে তারা তিনটি অনুশীলন ম্যাচ খেলাসহ দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর ইসিবি পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রস বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি সব সময়ই আগে থাকে। সব খেলোয়াড়ই অনেক প্রশ্ন করেছে। তবে সব কিছুই এগিয়ে যাবে।’
স্ট্রস আরও জানিয়েছেন বর্তমান পাকিস্তান সিরিজের পরই স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করে চলবে।
জুলাইয়ে গুলশানে জঙ্গি হামলার পর এর আগে সীমিত ওভারের অধিনায়ক এয়োইন মরগান নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি বলেছেন বাংলাদেশ সফর করলেও তারা সব ক্রিকেটারদের সফরে বাধ্য করবে না। বলা হচ্ছে ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচটিও নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গত রাতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান রেগ ডাকাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ইংল্যান্ড টেস্ট ও ওয়ানডের ক্রিকেটাররা। সেখানে সফরের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ইংল্যান্ড টেস্ট অধিনায়ক কুক ও ওয়ানডে অধিনায়ক মরগান, প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেভিড লিথারডেল, ইসিবি কর্মকর্তা জন কার ও প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন উপস্থিত ছিলেন।
এরপর ইসিবির বিবৃতিতে বলা হয় ‘ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর নির্ধারিত সময়েই হবে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানগুলো পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ করেছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বর্তমান পারিপার্শ্বিকতা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত। এর প্রেক্ষিতেই ইসিবি ও পিসিএ আত্মবিশ্বাসী যে সফর এগিয়ে যেতে পারে।’
‘এসময় সব খেলোয়াড় ও ব্যবস্থাপকের মাঝে ব্যাপক আলোচনা হয়। খেলোয়াড়রা অনেক প্রশ্ন করেন। তারা হয়তো আরও প্রশ্ন করবেন। তবে সেটির উত্তর দিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা চলমান পারিপার্শ্বিকতাকে সর্বদাই যাচাই বাছাই পর্বেক্ষণ করবো। যেটি সফর চলাকালীন অব্যাহত থাকবে।’
১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘গাজী টায়ার্স ক্রিকেটার্স হান্ট’
পেস বোলারদের সন্ধানে ‘পেসার হান্ট’ কর্মসূচি হলেও সেটা নিয়মিতভাবে হয় না। অন্যদিকে সেই কর্মসূচিতে ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের সুযোগের জায়গা নেই। এই ‘পেসার হান্ট’ থেকে কয়েকজন ভালো গতিশীল বোলার পেয়েছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে শুধুমাত্র পেসার নয় , তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করতে আসছে গাজী গ্রুপ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে বহুদিন থেকে নানা ভাবে যুক্ত আছে গাজী গ্রুপ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অফিসিয়াল ব্রডকাস্টার চ্যানেল গাজী গ্রুপের ‘গাজী টিভি’। এছাড়া
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ‘গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স’ নামে তাদের একটি দল আছে। যা প্রিমিয়ার লিগের প্রতি আসরে নিয়মিত খেলে আসছে। এবার দেশজুড়ে ক্রিকেট প্রতিভা খুঁজে বের করতে মাঠে নামছে গাজী গ্রুপ।
‘গাজী টায়ার্স ক্রিকেটার্স হান্ট’ নামে তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করতে একটি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে গাজী গ্রুপ। দেশের আটটি জেলায় হবে এই কার্যক্রম। সেগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর। আর এই কার্যক্রম শুরু হবে পহেলা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে অডিশনের মাধ্যমে। অন্যদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অডিশনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের প্রাথমিক ভাগের সমাপ্তি ঘটবে। ঢাকার একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলন করে এমন ঘোষণাই দিয়েছে গাজী গ্রুপ।
ভবিষ্যতের সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুরর রহিম, মাশরাফি বিন মর্তুজাকে খুঁজে বের করতে এই প্রক্রিয়ার প্রধান হিসেবে থাকবেন কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রাথমিকভাবে আটটি জেলা থেকে ৬০ থেকে ৮০ জন ক্রিকেটার বাছাই করা হবে। আর এই বাচাই প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবেন কোচ সালাউদ্দিন। এরপর সেই ৬০-৮০ জন ক্রিকেটার থেকে চূড়ান্তভাবে ২০-২৫ তরুণ ক্রিকেটারকে বাছাই করে হবে। তাদের সাথে চার বছরের চুক্তি করবে ‘গাজী টায়ার্স ক্রিকেটার্স হান্ট’। এই চার বছরে তাদেরকে ট্রেনিং করানো হবে। পাশাপাশি থাকবে এক বছর মেয়াদী ‘গোলাম দস্তগীর গাজী ক্রিকেট স্কলারশিপ’ এর ব্যবস্থাও। এই তরুণ ক্রিকেটারদের স্বপ্ন দেখানোর পথকে গড়ে দেয়াই মূল উদ্দেশ্য
এদিকে এই কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর। পাশাপাশি শুধুমাত্র ১৫ এর বেশি পুরুষ ক্রিকেটাররাই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) থেকেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের ফরম পাওয়া যাবে তাদের ফেসবুকের এই পেইজ থেকে।
তরুণ ক্রিকেটার খোঁজার এই প্রক্রিয়ার প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সাধারণ কোনো ক্রিকেটারের পেছনে ছুটবো না। যারা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে আমরা তাদেরকে নিবো। আমরা তাদের সঠিক পথ দেখাবো। কোনো কোচ খেলোয়াড় তৈরি করে দিতে পারে না। স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়। সাকিব-তামিম যারা জাতীয় দলে এখন খেলছে এদের সবার স্বপ্ন ছিলো।”
‘গাজী টায়ার্স ক্রিকেটার্স হান্ট’ অডিশনের সময়সূচীঃ
১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম
৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা সিলেট সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম
৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠ
১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম
১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম
২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা রাজশাহী রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম
২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম
২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ঢাকা সিটি ক্লাব, ঢাকা
‘গাজী টায়ার্স ক্রিকেটার্স হান্ট’র এই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম, দুই সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ সুজন, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। গাজী গ্রুপের নেয়া এই আয়োজনে সব ধরণের সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
Monday, August 22, 2016
তবলছড়ি সবুজ সংঘ মাঠ যেন ডাস্টবিন
উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাগ্রহ, স্থানীয় এলাকাবাসীর বিরূপ আচরণে রাঙামাটির তবলছড়ি এলাকার সবুজ সংঘ মাঠটি এখন ময়লা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। নিচু জায়গায় মাঠের অবস্থান হওয়ায় আশেপাশের বাসিন্দাদের ব্যবহৃত যাবতীয় পানিও এসে মাঠের অবস্থা করুন করে রেখেছে।
বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই যেন হাটু পরিমাণ জলাবদ্ধতা। ফলে, তবলছড়ি এলাকার একমাত্র খেলার মাঠটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম এলাকার খেলাধুলাও। নানা আবেদন নিবেদনের পর গত ২/৩ বছর অাগে সাবেক জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামালের সহযোগিতায় কিছুটা সংস্কার হলেও ভালোভাবে এই মাঠে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি গত এক দশকেও।
পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাঠ সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় প্রতিবছরই। বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার নোংরা ড্রেনের পানি মাঠে প্রবেশ করে।
এই পানির সাাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের ময়লা-আবর্জনাও এসে জমা হয় মাঠে। যার ফলে ওই নোংরা পানিতে স্থানীয়রা কোনরকম খেলাধুলা করলেও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা জানান, সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন সুফল পাওয়া যায়নি। যার ফলে খেলার মাঠটির এই বেহাল পরিস্থিতি।
সরেজমিনের দেখা গেছে, মাঠের পানি নিষ্কাশন ড্রেন থাকলেও তা দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার নেই। নেই ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানির সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি মিশে মাঠে জমা হচ্ছে। পুরো মাঠ জুড়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। মাঠজুড়ে জলাশয়, পাথর বালু ও পিচের স্তুপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা ক্রীড়া বিনোদন মেটাতে যেয়ে পড়ছেন দুর্ভোগ ও অসনীয় যন্ত্রনায়। খেলার মাঠে জমে থাকা পানি, ময়লা আবর্জনা, পাথর কুচিতে খেলোয়াড়দের শরীর হচ্ছে ক্ষত বিক্ষত। যার ফলে শরীরে ঘা পাচড়া হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করা হতো মাঠটিতে। খেলেছেন জাতীয় তথা রাঙ্গামাটির নামিদামি ক্রীড়াবিদরা। কিন্তু মাঠের আশেপাশের বাসিন্দাদের অসহযোগিতা ও উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনজরে না থাকায় কালের বিবর্তনে সবুজ সংঘ খেলার মাঠটি বিলীন হতে চলেছে।
বন্ধ হওয়ার উপক্রম খেলাধুলাও। মাঠের চারপাশে জায়গাও অপদখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়া সংগঠক-সমর্থকদের একটাই দাবি, ময়লা আবর্জনা, কাঁদা পানি, বালু ও পাথরের টুকরো দেখতে চাইনা। মাঠটি দ্রুত সংষ্কারের জন্য উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
(কৃতজ্ঞতায়ঃ মোঃহান্নান দীপ্ত ও সিএইচটি টাইমস)
তবলছড়ি সবুজ সংঘ মাঠ যেন ডাস্টবিন
উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাগ্রহ, স্থানীয় এলাকাবাসীর বিরূপ আচরণে রাঙামাটির তবলছড়ি এলাকার সবুজ সংঘ মাঠটি এখন ময়লা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। নিচু জায়গায় মাঠের অবস্থান হওয়ায় আশেপাশের বাসিন্দাদের ব্যবহৃত যাবতীয় পানিও এসে মাঠের অবস্থা করুন করে রেখেছে।
বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই যেন হাটু পরিমাণ জলাবদ্ধতা। ফলে, তবলছড়ি এলাকার একমাত্র খেলার মাঠটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম এলাকার খেলাধুলাও। নানা আবেদন নিবেদনের পর গত ২/৩ বছর অাগে সাবেক জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামালের সহযোগিতায় কিছুটা সংস্কার হলেও ভালোভাবে এই মাঠে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি গত এক দশকেও।
পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাঠ সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় প্রতিবছরই। বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার নোংরা ড্রেনের পানি মাঠে প্রবেশ করে।
এই পানির সাাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের ময়লা-আবর্জনাও এসে জমা হয় মাঠে। যার ফলে ওই নোংরা পানিতে স্থানীয়রা কোনরকম খেলাধুলা করলেও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা জানান, সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন সুফল পাওয়া যায়নি। যার ফলে খেলার মাঠটির এই বেহাল পরিস্থিতি।
সরেজমিনের দেখা গেছে, মাঠের পানি নিষ্কাশন ড্রেন থাকলেও তা দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার নেই। নেই ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানির সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি মিশে মাঠে জমা হচ্ছে। পুরো মাঠ জুড়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। মাঠজুড়ে জলাশয়, পাথর বালু ও পিচের স্তুপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা ক্রীড়া বিনোদন মেটাতে যেয়ে পড়ছেন দুর্ভোগ ও অসনীয় যন্ত্রনায়। খেলার মাঠে জমে থাকা পানি, ময়লা আবর্জনা, পাথর কুচিতে খেলোয়াড়দের শরীর হচ্ছে ক্ষত বিক্ষত। যার ফলে শরীরে ঘা পাচড়া হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করা হতো মাঠটিতে। খেলেছেন জাতীয় তথা রাঙ্গামাটির নামিদামি ক্রীড়াবিদরা। কিন্তু মাঠের আশেপাশের বাসিন্দাদের অসহযোগিতা ও উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনজরে না থাকায় কালের বিবর্তনে সবুজ সংঘ খেলার মাঠটি বিলীন হতে চলেছে।
বন্ধ হওয়ার উপক্রম খেলাধুলাও। মাঠের চারপাশে জায়গাও অপদখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়া সংগঠক-সমর্থকদের একটাই দাবি, ময়লা আবর্জনা, কাঁদা পানি, বালু ও পাথরের টুকরো দেখতে চাইনা। মাঠটি দ্রুত সংষ্কারের জন্য উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
(কৃতজ্ঞতায়ঃ মোঃহান্নান দীপ্ত ও সিএইচটি টাইমস)
Saturday, August 20, 2016
রাঙামাটি যত ক্লাব
অ্যাথলেটিকস ও ফুটবলে সুনাম ছিল শুক্কুর আলীর। সাহসী এই খেলোয়াড় অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেছেন মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হলেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রাণ দেন শুক্কুর আলী। তাঁর নামেই স্বাধীনতার পরপর রাঙামাটিতে গড়ে ওঠে শহীদ শুক্কুর অ্যাথলেটিকস ক্লাব। রাজ পরিবারের 'জনি দা' (কুমার সমিত রায়) নামের এক ক্রীড়া সংগঠকের উদ্যোগে গড়ে ওঠা শহীদ শুক্কুর অ্যাথলেটিকস ক্লাব, যেটি রাঙামাটির অন্যতম সফল দল। প্রথম বিভাগ ফুটবলে অনেকবারেরই চ্যাম্পিয়ন তারা। এই ক্লাবটিকেই ধরা হয় রাঙামাটির সবচেয়ে পুরনো ক্লাব হিসেবে।
১৯৩৬ সালে সাংবাদিক মুদাদ্দের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুকুল ফৌজ। জাতীয় এই সংগঠনের শাখা রাঙামাটিতে খোলা হয় ১৯৭৯ সালে। বেশ কয়েকবার রাঙামাটি মুকুল ফৌজের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক অ্যাথলেট আবুল বশর। মুকুল ফৌজের কার্যক্রম নিয়ে তিনি জানালেন, 'গতবারের প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের সুপার সিক্সে খেলেছি আমরা। স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে শুরু থেকেই আমরা ভালো করছি। আমার হাত ধরে এই ক্লাবের অনেক খেলোয়াড়ও খেলেছে জাতীয় পর্যায়ে।'
রাঙামাটির অন্যতম সফল আরেক দল ছদক ক্লাব। নাম শুনে খটকা লাগা স্বাভাবিক। নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের এক কর্তা দূর করে দিলেন খটকা, 'ছদক অর্থ আলোকিত। পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের অনেক নাম শুনেই চমকে যাবে যে কেউ।' ৩৫ লাখ টাকায় আয়োজিত সর্বশেষ ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন এই ছদক ক্লাব। ২০১১ সালে ২৫ লাখ টাকায় আয়োজিত আগের আসরের চ্যাম্পিয়নও তারা।
ক্রিকেটে সর্বশেষ ২০১৬ সালের লিগে চ্যাম্পিয়ন অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাব। রানার্সআপ হয়েছিল প্রগতি ক্রিকেট ক্লাব। অনিয়মিত লিগ হলেও গত দুই মৌসুমে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়েছে। ক্রিকেটের উল্লেখযোগ্য আরো ক্লাব- রফিক স্মৃতি,প্রতিভা,সাউথ ও ক্রিকেটার্স ক্রিকেট ক্লাব। একটা সময় টানা তিনবার ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রগতি ক্লাব। কিন্তু সেই জৌলুস হারিয়েছে তারা।ঐতিয্যবাহী অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাব গত ১০ বছর ধরে ক্রিকেটে রাজত্ব করে চলছে।২০০৭ লীগ চ্যাম্পিয়ন,২০১১/১২ চ্যাম্পিয়ন,২০১৩ লীগ রানার্সআপ ও ২০১৬ লীগ চ্যাম্পিয়ন।এছাড়া টি ২০ চ্যাম্পিয়ন ও অনুর্ধব ১৬ চ্যাম্পিয়ন অভিলাষ গত কয়েক বছরে।
এখানকার ক্লাবগুলোর বড় একটা সমস্যা ফুটবল দলগুলো অংশ নিতে পারে না ক্রিকেটে। তেমনি ক্রিকেট দলগুলোরও সুযোগ নেই ফুটবল লিগে খেলার।ক্রিকেটে সর্বশেষ লীগের টাকাও পায়নি ক্লাবগুলো।
রাঙামাটি খেলাধুলার কারিগররা
জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় জোগাড়ের পা
১৯৬৩ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হয়েছিলেন তিনি। অথচ তখন সুনীল কান্তি দে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র! সেই তখন থেকেই ক্রীড়াঙ্গনে জড়িয়ে আজকের প্রবীণ এই সংগঠক। বিভিন্ন সময় নানা দায়িত্বে ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার। ১৯৮৯ সালে নির্বাচনে জিতে হয়েছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এই দায়িত্ব পালন করেছেন দুবার। এখন দায়িত্ব পালন করছেন সহসভাপতির। পাশাপাশি ১৯৭৪ সাল থেকে দৈনিক সংবাদের পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধির কাজ করছেন সুনীল কান্তি দে। সাংবাদিকতাটা পেশা তবে হৃদয়ের সবটুকু টান ক্রীড়াঙ্গনের জন্য। এভাবেই কাটাতে চান তিনি বাকি জীবনটা, 'রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে জড়িয়ে গেছি ওতপ্রোতভাবে। এই বয়সেও ছাড়তে পারছি না। কী আর করা, এভাবেই যেন কেটে যায় বাকি জীবনটা।'
নাছিরউদ্দিন সোহেল ক্রিকেট ছেড়েছেন ২০১০ সালে। ছিলেন রাঙামাটি জেলা দলের অধিনায়ক। তবে খেলাটা ছাড়লেও ক্রিকেটই ছাড়েনি সোহেলকে। ২০১৪ সালে করেছেন লেভেল ওয়ান কোচিং। তারও আগে করেছেন আম্পায়ারিংয়ের লেভেল 'এ' কোর্স। জেলা আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক সোহেল। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন অভিলাষ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকেরও। তবে এসব ছাপিয়ে এখন বেশি ব্যস্ত এ বছর তাঁর হাতেই গড়ে ওঠা কনফিডেন্স ক্রিকেট একাডেমি নিয়ে। ২৩ জন ছাত্রে নিয়ে একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানালেন, 'ক্রিকেট অনেক পিছিয়ে গেছে রাঙামাটিতে। সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে তাই দায়িত্ব নিয়ে গড়লাম এই একাডেমিটা।' এর আগে অবশ্য জেলা দলের কোচ মহিতোষ দেওয়ান গড়ে তুলেছেন রাঙামাটি ক্রিকেট একাডেমি নামের আরেকটি সংগঠন। মহিতোষ দেওয়ান করেছেন লেভেল টু কোচিংও।
বরুণ দেওয়ান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন টানা দুবার। ২০১০ সালে প্রথম দফা দায়িত্ব পালনের পর জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা নির্বাচনে দাঁড়ান ২০১৪ সালেও। নির্বাচনের দিন বিদেশে থাকায় নিজের ভোটটা পর্যন্ত দিতে পারেননি, তার পরও জয়ী হয়েছেন ঠিকই।
এ ছাড়া রাঙামাটির সংগঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম দীপন তালুকদার দীপু, হাজী কামাল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, মনিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, রমজান আলী, শফিউল আজম, আবু সাদাত ও মোহাম্মদ সায়েম।
Friday, August 19, 2016
রাঙামাটি ক্রীড়ার উজ্জ্বল মুখ
একদিক দিয়ে খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল নিয়ে যাওয়ার পথে আচমকা দিক পরিবর্তন করে বিপরীত দিকের দূরের সহযোগীকে বল ঠেলে খেলার ধারা বদলে দেওয়া ছিল তাঁর ফুটবল শৈলী ও ট্যাকটিসের এক নতুন দিক। দৌড়ের অবিশ্বাস্য গতি সম্পর্কে ধারণা করা যে কারো জন্য ছিল কঠিন। কেননা প্রাদেশিক ৪০০ মিটার দৌড়েও হয়েছিলেন তৃতীয়। তিনি রাঙামাটির গৌরব মংহ্লাচিং চৌধুরী, যাঁকে মারী নামেই চেনে পুরো বাংলাদেশ।
১৯৫২ সালে মারী যোগ দেন ফায়ার সার্ভিসে। ১৯৫৩-৫৪ সালে ওয়ান্ডারার্সে আর ১৯৫৬ সালে খেলেন মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে। পাকিস্তান জাতীয় দলে মারী জায়গা পেয়েছিলেন ১৯৫৮ টোকিও এশিয়ান গেমসে। জাপানের পত্রপত্রিকায় তাঁর খেলার প্রশংসা লেখা হলেও পাকিস্তানি ফুটবল কর্তাদের তাতে মন কাড়েনি। তাই অনিয়মিত ছিলেন মারী। পাকিস্তান জাতীয় দলে অনিয়মিত থাকলেও পূর্ব পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনিই।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মং রাজবংশের ছেলে মারী পারিবারিক সূত্রে পেয়েছিলেন রাজকীয় আচার-আচরণ, চলাফেরা ও অবাধ খরচ করার অভ্যাস। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তাঁর চেয়ে ফুটবল থেকে বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন এমন কেউ ছিলেন না পূর্ব পাকিস্তানে। তবে দুস্থ বন্ধু বা পরিচিতদের টাকা ধার দিয়ে তা ফেরত না নেওয়ার প্রবণতার জন্য মারীকে শেষ জীবনে খেসারত দিতে হয়েছে। ইপিআইডিসিতে চাকরি সূত্রে ডিজিএমও হয়েছিলেন। কিন্তু দুহাতে খরচ করার জন্য আর্থিকভাবে থিতু হতে পারেননি। তাই জীবনের শেষ ২০-৩০ বছর পাঁচজনের সংসার টানতে দারুণ কষ্ট হয়েছে। শেষ জীবনে চিকিৎসার প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিল দিতে না পারায় মারীকে ছাড়পত্রও দিচ্ছিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ী রিয়াজউদ্দিন আল মামুন 'ফুটবলার মারী' নাম শুনে পুরো বিলটা মিটিয়ে দেন। মৃত্যুর আগের দিন তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করার পর ক্রীড়া লেখক সমিতি এক লাখ টাকা সাহায্য করেছিল। ১৯৮১ সালে মারী পেয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। তাঁর নামেই রাখা হয়েছে রাঙামাটি জেলা স্টেডিয়ামের নাম।
মারীর মতো বিখ্যাত হয়তো হননি। তবে জাতীয় দলে খেলে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন বরুণ দেওয়ান। তিনি খেলেছেন আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা, ব্রাদার্সের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে। ১৯৮৮ সালে জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৬ দলে খেলে বর্ণিল ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু বরুণের। ১৯৮৯ সালে অনূর্ধ্ব ১৯,পরের বছর অনূর্ধ্ব ২৩ দলে প্রতিভার দ্যুতি দেখিয়ে ডাক পান জাতীয় দলে। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি কাপের শিরোপাজয়ী দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই লেফট ব্যাক। সেখানে খেলেছিলেন ভাঙা নাক নিয়েও! ১৯৯৯ সালে ব্রাদার্সে শেষ হয় বরুণের ক্যারিয়ার। বরুণ দেওয়ান এখন দায়িত্ব পালন করছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের। তাঁর ভাই অরুণ দেওয়ানও খেলেছেন জাতীয় দলে। শুরুটা ১৯৮৬ সালের অনূর্ধ্ব ২৩ দলে। এরপর খেলেছেন ভিক্টোরিয়া, ওয়ারী, ফরাসগঞ্জ, মুক্তিযোদ্ধার মতো দলে।
তাঁদের পুরো পরিবারই ক্রীড়াঅন্তপ্রাণ। ভাইদের পাশাপাশি জাতীয় হ্যান্ডবল দলে খেলেছেন অরুণ-বরুণের দুই বোন স্বর্ণা দেওয়ান আর মিতা দেওয়ান। স্বর্ণা দেওয়ান প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাফ গেমসেও।
এ ছাড়া এফআই কামাল জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি অধিনায়কত্ব করেছেন আবাহনীর মতো ঐতিহ্যবাহী দলের। রাঙামাটিতে একই সময়ে দুই কামাল খেলায় তাঁকে ডাকা হতো ছোট কামাল নামে। বিপ্লব মারমা এখন ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। তিনিও ডাক পেয়েছিলেন জাতীয় ফুটবল দলে। এ ছাড়া ফুটবলে জেলার নাম উজ্জ্বল করেছেন পরিতোষ দেওয়ান, কিংশুক চাকমা, বাথুই মারমা, নিংচাই মারমা, পান্নালালরা। মেয়েদের ফুটবলে এক সময় বাংলাদেশের সেরা তারকা ধরা হত সুইনু প্রু মারমাকে। জাতীয় মার্শাল আর্টে ভালো করেছিলেন নির্মল বড়ুয়া মিলন।
নিজের সময়ে হার্ডলসে বাংলাদেশের সেরা ছিলেন অরুণ চাকমা। জাতীয় হার্ডলসে তাঁর রেকর্ড টিকে ছিল দীর্ঘদিন। সেটা ভেঙেছেন সেনাবাহিনীর সুবেদার মোশতাক। পাশাপাশি খেলতেন ফুটবলও। খেলেছেন ফায়ার সার্ভিস, আজাদ স্পোর্টিং, ইস্পাহানির মতো ক্লাবে। অবসর নেওয়ার পর ১৯৭২ সালে অরুণ চাকমা হয়েছিলেন জাতীয় অ্যাথলেটিকস দলের কোচ। সে সুবাদে থাকতেন ঢাকাতেই। খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকায় পরিবারকে সময় দিতে পারেননি সেভাবে। এ বছরের ১৫ জুন পৃথিবীর ওপারের বাসিন্দা হয়েছেন রাঙামাটির এই কিংবদন্তি। তাঁর একটা কথা কানে বাজে এখনো, 'পাহাড়ি অঞ্চলের খেলোয়াড়দের যে স্ট্যামিনা, তাতে তারা শাসন করতে পারত দেশের অ্যাথলেটিকস। কিন্তু অযত্ন, অবহেলা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেভাবে উঠে আসেনি তারা।' তাঁর স্ত্রী মুক্তালতা চাকমা হতাশা নিয়েই জানালেন, 'তিনি দেশের জন্য অনেক সম্মাননা এনেছেন। বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে অনেক দেশেই গেছেন, এনেছেন সম্মাননা। কিন্তু দেশ তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে মূল্যয়ন করেনি। কোনো সম্মাননাও দেয়নি। এখন মরণোত্তর হলেও অরুণ কোনো সম্মাননা পেলে কৃতজ্ঞ থাকব আমরা।'
অরুণ চাকমার পথ ধরে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে সাফল্য পেয়েছেন এই জেলার অনেকে। তাদের অন্যতম শর্মিলা রায়, প্রীতিরানী চাকমা, স্মরণীকা চাকমা ও শাহান উদ্দিন।
হকিতে জেলার উজ্জ্বল মুখ পুস্কর খিসা মিমো। জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড তিনি। দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের জন্য পেয়েছেন মর্যাদার শেখ কামাল পুরস্কারও। সর্বশেষ লিগে খেলেছেন আবাহনীতে।